যখন আমি থাকবো না

ছেলেটা আর মেয়েটা একই সংগে একই স্কুলে পড়ত ।ছেলেটা রোজ লাল সাইকেল চালিয়ে স্কুলে আসত ।আর মেয়েটার একটা সবুজ রংএর স্কুটী ছিল ।ছেলেটা পেছনের বেঞ্চে বসত ।প্রতিদিন মেয়েটার সঙ্গে যেচে যেচে কথা বলত,অফ পিরিয়ডে টিফিন আওয়ারে ।ছেলেটা সব সময় খোঁজ নিত ম্যাথ হোমওয়ার্ক কমপ্লিট হয়েছে কিনা,কেমেস্ট্রী পিরিওডিক টেবিল বুঝেছে কি না,গত পরশু কেন স্কুলে আসেনি,কোনো ক্লাস নোট চাই কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি ।একটু গায়ে পড়া ধরনের ।মেয়েটার ভাষায় ক্যাবলা চরন ।মেয়েটা কখনও হাঁ হুঁ করে পাশ কাটিয়ে চলে যেত আবার কখনও অরগ্যানিক কেমেস্ট্রী বা পিরিওডিক টেবিল বোঝার প্রয়োজন হলে টিফিন আওয়ারে পেছনের বেঞ্চে গিয়ে বসতেও দ্বিধা করত না ।মেয়েটা আর সবেতে যতই স্মার্ট হোক,কেমেস্ট্রী তে ছেলেটাই স্মার্ট ছিল ।যদিও স্মার্ট মেয়েরা ক্যাবলা ছেলেদের সঙ্গ বেশি পছন্দ করে না কিন্তু ওই কেমিস্ট্রী কানেকশন স্মার্ট মেয়ে আর ক্যাবলা ছেলের মধ্যে বন্ধুত্ব টিকিয়ে রেখেছিল ।

   একদিন স্কুল ছুটীর পর বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার পাশে একটা লাল সাইকেল দেখে মেয়েটা একটু দাড়াল ।যদিও স্মার্ট মেয়েরা রাস্তা ঘাটে একা চলাফেরার সময় খুব বেশি চারপাশে নজর দেয় না,তবুও লাল সাইকেলটা দেখে একটু চেনা মনে হলো ।সাইকেলটা যে কৃষ্ঞচূড়া গাছটার গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড় করানো ছিল তার পাশেই একটা বড় পুকুর ।মূহুর্তের জন্য একটা অশুভ চিন্তা মনে উঁকি দিয়ে গেল ।তাই মেয়েটা স্কুটীটা না থামিয়ে পারল না ।লাল সাইকেলের মালিককে চারপাশে খুঁজতে গিয়ে গাছের উপর নজর পড়তেই ব্রহ্মতালু গরম হওয়ার উপক্রম ।কৃষ্ঞচূড়ার যে ডালটা পুকুরের উপর ঝুঁকে পড়েছে তার উপর তিনি চড়ে বসে আছেন ।তার নিচের ডালে দুই সাগরেদ ।এমন একটা দৃশ্য দেখে আঁত্কে ওঠাই স্বাভাবিক ।তাই কালিদাসের এই আধুনিক সংস্করনটির অভিপ্রায় জানার জন্য সাগরেদ দুটোকে পশ্ন করতেই হলো,তোদের হঠাত্ কালিদাস হবার ইছ্ছে হলো কেন?ওরে কালিদাস নয়, এটা দেবদাস ।পার্বতী এই রাস্তা দিয়ে বাড়ি যায় কিনা, তাই তাকে দেখবে বলে গাছে উঠে বসে আছে,সাগরেদ খুব উদ্বিগ্ন হয়ে বলল।মেয়েটা অত্যুত্সাহিত হয়ে জিজ্ঞেস করল,সেই পার্বতীটা কে একটু শুনি ।সাগরেদ বলল, তুই জিজ্ঞেস কর ।আমরা এত বলা সত্বেও গাছ থেকে নামল না,এখন পার্বতীকে দেখেই যদি গাছ থেকে নামে  ।পার্বতী না এলে আজ কি যে হতো ।ততক্ষনে সবাই গাছ থেকে নেমে পড়েছ ।কথা অসমাপ্ত রেখেই তিন জনে পড়ি মরি করে ছুট্ ।মেয়েটা কিছু বোঝার আগেই তিন জনে অদৃশ্য হয়ে গেল ।মেয়েটার খুব জোর হাসি পেল, ক্যাবলা ছেলেগুলোর ক্যাবলামি দেখে।একটু রাগও যে হলো না তা নয়, কিন্তু স্মার্ট মেয়েরা এই সব পাত্তা দেয় না ।

পরের দিন স্কুলে যা হবার তাই হলো ।দেওয়ালে দেওয়ালে খোদাই হয়ে গেল  দেবদাস প্লাস দিদিমণি ।মেয়ে তো রেগেই আগুন ।পড়াশুনোয় প্রচন্ড সিরীয়াস বলে বন্ধুরা নাম দিয়েছে দিদিমণি ।সেটা যে এভাবে দেওয়ালে কেউ লিখে দেবে,ছিঃ ।কিন্তু কিছু করার নেই ।কয়েকদিন পরেই পরীক্ষা ।তাই মন খারাপ না করে পড়াশোনায় মন দেওয়াটাই একমাত্র স্মার্ট মনে হলো ।ভাগ্যিস মেয়েটার কোনো ফেসবুক আ্যাকাউন্ট ছিল না ।বাবা মা জানতে পারলে সহজেই ভুল বুঝতে পারত ।

পরীক্ষা শেষ ।একটু গরমের হাওয়া পড়েছে ।এই সময়টায় ব্যালকানিতে বসে বিকেলের নরম রোদ গায়ে লাগিয়ে গল্পের বই পড়তে বেশ ভালই লাগে ।বাকি বন্ধুরা হয়তো হোয়াট্স আ্যাপ ফেসবুক অথবা চেতন ভগতের লেটেস্ট রিলীজ নিয়ে ব্যস্ত ।কিন্তু তার মধ্যে ব্যাতিক্রমী মেয়েরা আব্দুল কালামের লেখাও পড়ে । আব্দুল কালামের লেখার মধ্যে এতো অনুপ্রেরণা থাকে যা অনায়াসেই তরুন প্রজন্মের সাফল্যের চাবিকাঠি হতে পারে ।এমন লেখা পড়তে মেয়েটার বেশী ভালো লাগে ।সেই ভালো লাগার রেশ কাটলো অনবরত একটা সাইকেলের ঘন্টীর আওয়াজে ।ব্যালকনি থেকে মুখ বাড়াতেই চোখে পড়ল সেই লাল সাইকেলের মালিক যার জিজ্ঞাসু দৃষ্টি চাইছে মেয়েটাকে নীচে নেমে আসতে ।নীচে নেমে আসতেই দন্ত বিস্তৃত একমুখ হাসির সঙ্গে একটা গোলাপ ফুল ছাপা কার্ড আর একটি ক্যাডবেরী চকলেট উপহার ।কারনটা কার্ডের ভিতরেই বড় বড় করে লেখা ,সরী ।যদিও বাড়ির নীচে ছেলেটাকে দেখে বেশ রাগই হয়েছিল কিন্তু উপহার তো উপহারই ।কেউ দিলে বরং ভালোই লাগে ।তাই মেয়েটার যতই রাগ হোক না কেন ছেলেটাকে থ্যাঙ্ক ইউ না বলে পারল না ।স্মার্ট মেয়েরাও কখনও কখনও ক্যাবলা হয়ে যায় ।সেটা যাতে বাইরে না প্রকাশ পায় তাই থ্যাঙ্ক ইউ এর সাথে কঠিন স্বরে আরেকটা লাইন জুড়ে দিল, এবার যদি ক্যাবলামি করিস তোর সঙ্গে কথা বলাই বন্ধ করে দেব।

 তরপর থেকে ছেলেটা এমন কিছু করেনি যা মেয়েটা পছন্দ করেনা । মেয়েটাও আগের মতোই যখনই প্রয়োজন হয়েছে পিছনের বেঞ্চে বসে কেমিস্ট্রী চর্চা করেছে ।তারপর সংসারের নিয়ম মেনে স্কুল পেরিয়ে কলেজ পেরিয়ে শৈশব  পেরিয়ে কৈশোর পেরিয়ে একদিন একটা স্মার্ট ছেলের সাথে স্মার্ট মেয়ের বিয়ে হয়ে গেল ।বিয়েতে সবচেয়ে কমদামী যে উপহারটা পেয়েছিল,তার প্রিয় লেখক এপি জে আব্দুল কালামের লেখা একটা বই ।বইয়ের ভিতরে লেখা ছিল সেই ছেলেটার নাম আর একটা কবিতার কয়েকটা লাইন-

                   তোমার খাতার প্রথম পাতায়

                               একেঁ দিলাম আল্পনা

                       আমার ছবি কইবে কথা

                               যখন আমি থাকব না

বিয়ের পর নতুন জীবনের নতুন স্বপ্নের ঘোরে বইটা আর পড়া হয়নি মেয়েটার ।হাজার চাকচিক্যের মাঝে সেই সামান্য উপহার কবেই হারিয়ে গেছে ।হারিয়ে গেছে ছেলেটাও ।মনে রাখা হয়নি ।এমনি তো কত বন্ধু আসে যায়।

  হঠাত একদিন আবার কেমিস্ট্রী কানেকশন ।শহরের এক নামী হসপিটালের ওয়েটিং রুমে মেয়েটা অপেক্ষা করছিল ডাক্তারের জন্য ।দুই বছরের ছেলের খুব শরীর খারাপ ।ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়াটাই কঠিন ।তাই অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হছ্ছিল ।এমন সময় একজন এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল,আরে তুই এখানে ?অনেক বছর পর ।কেমন আছিস ?চিনতে পারছিস ?এতগুলো প্রশ্নের উত্তর একসাথে দেওয়ার আগে পশ্নকর্তাকে চেনার চেষ্টা করছিল মেয়েটা। চিনতে খুব কষ্ট হলো তা নয় ।সেই লাল সাইকেলের মালিক ।মুখটা একই রকম আছে, সেই দন্ত বিস্তৃত হাসি, ওজন একটু বেড়েছে এই যা ।শুধু চেহারায় একটু ক্লান্তির ছাপ ।ছেলেটা জিজ্ঞেস করল,এখানে কোন ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়েছিস?মেয়েটা ডাক্তারের নাম বলল,এই ডাক্তারের কাছে সব সময় একটু ভীড় থাকে, তাই অনেক্ষন অপেক্ষা করতে হছ্ছে ।ছেলেটা শুনল, তারপর আসছি বলে কিছুক্ষনের জন্য ভিতরে চলে গেল।ফিরে এসে বলল,আর বেশিক্ষন অপেক্ষা করতে হবেনা, তাড়াতাড়ি হয়ে যবে ।সত্যি আর বেশিক্ষন অপেক্ষা করতে হলো না,তাড়াতাড়ি ডাক্তার দেখানো শেষ করে মেয়েটা যখন ফিরল ছেলেটা তখনও ওয়েটিং রুমে বসে আছে ।মেয়েটা ধন্যবাদ জানাতে চাইল ।ছেলেটা বলল , ধন্যবাদ না বললেও চলবে,আমি যেহেতু মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টিভ, ডাক্তারদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক একটু তো থাকেই, সেটারই একটু সদ্ব্যবহার করলাম ।পুরোনো বন্ধুর জন্য এইটুকু করব না ? মেয়েটা খুশী হলো,পৃথিবীতে কিছু মানুষ আছে যারা কোনোদিনও বদলায় না ।যদিও পৃথিবীটা কখনও কখনও বদলে যায়।তারপর অনেক কথাই হলো, ফোন নম্বর দেওয়া নেওয়া হলো ।মেয়েটা জিজ্ঞেস করল, তারমানে এখন কি অফিসের কাজেই এসেছিস ।ছেলেটা বলল ,না,বাবার শরীর খুব খারাপ ।কিছু মেডিক্যাল টেস্টের রিপোর্ট পাবার জন্য আপেক্ষা করছি ।ততক্ষনে ড্রাইভার এসে বাইরে মেয়েটার জন্য অপেক্ষা করছে ।মেয়েটা আর সময় নষ্ট না করে গাড়ীর দিকে পা বড়াল ।ছেলেটার বাবার অসুখের বৃত্তান্ত শোনার আর সময় ছিল না ।যাবার আগে শুধু বলে গেল,আজ চলি, আবার কোনোদিন দেখা হবে, ফোন করিস ।ছেলেটা শুধু দূর থেকে দেখতে পেল বি এম ডব্লু গাড়ীর জানলা দিয়ে মেয়েটা হাত নাড়ল ।সেটা পুরোনো বন্ধুত্বের জন্য না সৌজন্যমূলক বোঝা গেল না ।

তারপর দুমাস কেটে গেছে ।ছেলেটা বলেছিল ফোন করবে, করেনি ।মেয়টাও ফোন নম্বরটা মনে রাখেনি ।একদিন সত্যিই ছেলেটা ফোন করল ।গলাটা শুনে মনে হলো যেন কাঁদছে ।মেয়েটা জিজ্ঞেস করল,কেমন আছিস, এতদিন পর ফোন করার সময় হলো ।ছেলেটা বলল, না সময় পাইনি, আসলে বাবা হসপিটালে ভর্তি।খুব খারাপ অবস্থা ।একটা অপারেশন করতে হবে । ডাক্তার যা খরচের হিসাব দিয়েছে সেটা যোগাড় করে উঠতে পারিনি,তাই মরিয়া হয়ে তোকে ফোন করলাম, যদি কিছু সাহায্য করিস তাহলে একবার শেষ চেষ্টা করে দেখব।টাকার অঙ্কটা শুনে মেয়েটা একটু ঘাবড়ে গেল ।তাই কিছু কথা না বাড়িয়ে আছ্ছা দেখছি বলে ফোনটা রেখে দিল ।তারপর ছেলেটা দু তিন বার ফোন করেছিল,মেয়েটা তোলেনি ।মেয়েটা ভাবল, সেদিন বি এম ডব্লিউ গাড়ী দেখে ছেলেটা মনে করেছিল ওরা বেশ বড়লোক,তাই টাকা চাইলেই পাওয়া যাবে ।কারনটা কতটা সত্যি কে জানে ।তাই চুপচাপ থাকাই ভালো ।পরে এক বন্ধু মারফত জেনেছিল, ছেলেটার সত্যি টাকার দরকার ছিল বাবার অপারেশনের জন্য ।কিন্তু এখন আর অনুতাপ করে কোনো লাভ নেই ।কারন ছেলেটার বাবা ততদিনে মারা গেছে ।

যাইহোক স্মার্ট মেয়েদের এইসব ছোটোখাটো ঘটনা ভুলতে বেশী সময় লাগে না।কিন্তু এইসব ছোটোখাটো ঘটনা যে স্মার্ট মেয়েদের জীবনেও ঘটে তা মেয়েটার জানা ছিল না।বহু বছর ধরে মাইগ্রেনের যন্ত্রনায় ভুগছিল মেয়েটাটা।কিন্তু পেইন কিলার ছাড়া আর কোনো সমাধান পায়নি।পেইন কিলার শরীরের জন্য কত ক্ষতিকারক হতে পারে সেই কেমিস্ট্রী মেয়েটা ভুলে গিয়েছিল। ষখন জানতে পারল তখন ডাক্তার জানিয়ে দিল দুটো কিডনীই শেষ।কিড্নী প্রতিস্থাপন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে সেই প্রথম মেয়েটা জানল পৃথিবীতে সব কিছু সব সময় টাকা দিয়ে কেনা যায় না সেটা কিডনীই হোক বা বন্ধুত্ব।তারপর শুরু হলো জীবন মৃত্যুর মাঝে একটা কিডনীর দীর্ঘ অপেক্ষা।

কিন্তু বিপদ যেমন আসে তেমনি চলেও যায়।অবশ্য যারা একটু বেশী ভাগ্যবান তাদের জন্য।কেউ কেউ কম ভাগ্যবানও থাকে।এমনই এক কম ভাগ্যবান মৃত্যুর আগে তার শেষ ইছ্ছা অনুযায়ী তার কিডনী দুটো দান করে যায়।সেই দানের কিডনী যখন মেয়েটার শরীরে জড়ে যায় তখন শরীরটা আবার স্মার্টলি কাজ করতে শুরু করে।ওষুধের ঘোর কাটে, বন্ধ চোখ আবার খোলে,হসপিটাল থেকে ঘরে ফেরার দিন আসে।হসপিটাল ছাড়ার আগে মেয়েটার খুব জানতে ইছ্ছে করে সেই দূর্ভাগা অচেনা বন্ধুর পরিচয় যার জন্য আজ সে ভাগ্যবান।যখন সে জানতে পারে যে সে আর কেউ নয সেই ক্যাবলা ছেলেটা যে স্কুলের রাস্তার ধারে কৃষ্ঞচূড়া গাছের ডালে মেয়েটার জন্য অপেক্ষা করত,  সেই  ছেলেটা, যে কোনোদিন মেয়েটাকে বলতে পারেনি,তোকে ভালোবাসি,সেই ছেলেটা যার দেহটা পেছন থেকে ছুটে আসা ট্রাকের ধাক্কায় মোটোরবাইক থেকে পড়ে পিষে যায়, সেই ছেলেটা যে মৃত্যুর মধ্যেও বলে যায় আমার শরীরের সব অঙ্গ যেন দান করা হয়,সেই ছেলেটার ক্যাবলামি যখন জানতে পারল তখন সব শেষ, সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।পড়ে আছে সেই উপহারের বই আর তাতে লেখা…

                তোমার খাতার প্রথম পাতায়

                               একেঁ দিলাম আল্পনা

                       আমার ছবি কইবে কথা

                               যখন আমি থাকব না।

 মেয়েটা ঘরে ফিরে বহুদিন পর ধুলোর ভেতর থেকে সেই বইটা আজ খুঁজে পেল।সেদিন মেয়েটার চোখের কোনে কোনো জলের রেখা আঁকা ছিল কিনা স্মার্ট ছেলেটার আর দেখার সময় হয়নি।

Design a site like this with WordPress.com
Get started